سورة An-Nazi'at ( Those who Pull Out )
سورة An-Nazi'at ( Those who Pull Out ) - জহুরুল হক عدد الآيات 46
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড-প্রচেষ্টার কথা;
আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,
আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে,
আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে,
তারপর ঘটনানিয়ন্ত্রণকারীদের কথা!
সেদিন স্পন্দিত হবে বিরাট স্পন্দনে,
পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।
হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে,
তারা বলছে -- ''আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব?
''যখন আমরা গলা-পচা হাড্ডি হয়ে যাব তখনও?’’
তারা বলে -- ''তাই যদি হয় তবে এ হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’’
কিন্ত এটি নিশ্চয়ই হবে একটি মহাগর্জন,
তখন দেখো! তারা হবে জাগ্রত।
তোমার কাছে মূসার কাহিনী পৌঁছেছে কি? --
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে আহ্বান করেছিলেন পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে --
''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে --
''তারপর বলো -- 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
তারপর সে চলে গেল প্রচেষ্টা চালাতে;
তারপর সে জড়ো করল এবং ঘোষণা করলো,
এবং বললো -- ''আমিই তোমাদের প্রভু, সর্বোচ্চ।’’
সেজন্য আল্লাহ্ তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ-সব বানিয়েছেন।
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
আর পৃথিবী -- এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
আর পাহাড়-পর্বত -- তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, --
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি-পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, -- সেটাই তো বাসস্থান।
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা-বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে --
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, -- সেটাই তো বাসস্থান।
তারা ঘড়ি-ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে -- কখন তার আগমন হবে?’’
এ-সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ-সন্বন্ধে ভয় করে।
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।