যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, --
এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।
এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।
যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,
আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে --
ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,
আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে --
যথা ডান দিকের দল, -- কেমনতর এই ডানদিকের দল!
আর বাঁদিকের দল, -- কেমনতর এই বাঁদিকের দল!
আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।
তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।
তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা --
পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।
তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।
আর ফল-মূল যা তারা পছন্দ করে;
আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,
আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; --
যা তারা করতো তার পুরস্কার।
তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, --
শুধু এই কথা ছাড়া -- ''সালাম! সালাম!’’
আর ডানদিকের দল, -- কেমনতর এই ডানদিকের দল!
কাঁটা বিহীন সিদরাহ-গাছের নীচে,
আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,
ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।
নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;
আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,
দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।
প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,
আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।
কিন্তু বামপন্থীদল -- কেমনতর এই বামপন্থী দল।
উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,
শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।
অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,
আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,
আর তারা বলত -- ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, --
এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?
তুমি বলো -- ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা --
''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে-ক্ষণে,
''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!
''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,
''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,
''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,
''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’
এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?
তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ -- যা তোমরা স্খলন কর?
তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?
আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, --
যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।
আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?
তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?
আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড়-কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,
''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,
''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’
তোমরা যে পানি পান কর সে-সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?
তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?
আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?
তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?
আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।
অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।
না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, --
আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, --
নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,
কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত-পবিত্র ছাড়া।
এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।
তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,
এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?
তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,
এবং তোমরা যে-সময়ে তাকিয়ে থাকো,
আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না --
তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তাহলে আয়েশ-আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।
আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,
তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে -- ''তোমার প্রতি সালাম।’’
আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, --
তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!
নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।
সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।